এই গ্রাহাম-ব্লুমেনথাল বিল পাশ হলে, রাশিয়ার তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম জেনে-শুনে আমদানি করছে - এমন দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা পাবে মার্কিন প্রশাসন।
Published on: Jan 08, 2026 4:34 PM IST
![]() |
| ট্রাম্পের নয়া বিলে ৫০০% শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি |
তাঁর কথা শোনেনি। রাশিয়া থেকে তেল আমদানিও বন্ধ করেনি ভারত। ফলে এবার ভারতের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিদলীয় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। আর এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন, ব্রাজিলের মতো দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে হোয়াইট হাউজ।
বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সেনেটর গ্রাহাম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর তিনি এই দ্বিদলীয় বিলের অনুমোদন বা ‘গ্রিনলাইট’ দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণীত ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’ নামে এই বিলটি পাশ হলে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলির আমদানির উপর উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপের এখতিয়ার পাবে হোয়াইট হাউজ। পরে হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিকও সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই গ্রাহাম-ব্লুমেনথাল বিল পাশ হলে, রাশিয়ার তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম জেনে-শুনে আমদানি করছে - এমন দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা পাবে মার্কিন প্রশাসন। বিলের মূল উদ্দেশ্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ অর্থনীতির অর্থের জোগান বন্ধ করা।
এই আইন প্রস্তাবটি যৌথভাবে এনেছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। সেনেটে ইতিমধ্যেই এই বিলের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন। একই সঙ্গে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সমান্তরাল একটি বিল পেশ করেছেন রিপাবলিকান সাংসদ ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। গ্রাহাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ দেবে, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।’ গ্রাহাম বলেন, ইউক্রেন পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। তাঁর দাবি, ‘শান্তির স্বার্থে ইউক্রেন ছাড় দিচ্ছে, আর পুতিন কেবল কথাই বলে যাচ্ছেন, নিরীহ মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছেন।’ সেনেটর গ্রাহাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই বিলটি নিয়ে মার্কিন সেনেটে ভোটাভুটি হতে পারে।
রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল
গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বিলটি তৈরি করেছেন। এই বিলটি রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি করা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষমতা দেবে। এর উদ্দেশ্য হল রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের উৎস বন্ধ করা। এই আবহে ভারতের উপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানির জেরে ইতিমধ্যেই ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাতেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার শর্ত জোরালোভাবে তুলে ধরছে ওয়াশিংটন। যদিও নয়া দিল্লি স্পষ্ট করেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও উপভোক্তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন উৎস থেকে কতটা সাশ্রয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় থাকবে বলে জানিয়েছে ভারত।
অন্যদিকে, রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার প্রথমবার ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত ইউরোপীয় প্রস্তাবগুলি সমর্থন জানিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং ইউরোপের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে রাশিয়া ইতিমধ্যে স্পষ্ট জানিয়েছে, ইউক্রেনে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির সেনা মোতায়েন তারা কোনভাবেই মেনে নেবে না। এ বিষয়ে মস্কোর সমর্থনের কোন ইঙ্গিত এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

0 Comments