উৎপাদন শিল্পকে চাঙ্গা করার জন্য প্রয়োজন অনেক জমি। আর শিল্পযোগ্য জমি পেতে হলে প্রয়োজন ভূমিসংস্কার। রাজ্যগুলিকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু সর্বত্র সেই কাজ পালিত হচ্ছে না।
![]() |
| নরেন্দ্র মোদী |
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উৎপাদন শিল্পকে চাঙ্গা করার জন্য প্রয়োজন অনেক জমি। আর শিল্পযোগ্য জমি পেতে হলে প্রয়োজন ভূমিসংস্কার। রাজ্যগুলিকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু সর্বত্র সেই কাজ পালিত হচ্ছে না। এই কারণে প্রয়োজন কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা ও উদ্যোগ। একইভাবে শিক্ষার উন্নতি ও বৈচিত্র্য তৈরিতে দরকার নিপুন শিল্পকর্মী। ভালো শ্রমিক, কর্মী না পাওয়া গেলে শিল্প সফল হতে পারে না। আর সেটি তখনই পাওয়া সম্ভব যখন একেবারে শিক্ষার নীচুতলা থেকে এই প্রশিক্ষণ আসবে। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকেও এমনভাবে শিক্ষাদান জরুরি যাতে ভালো কর্মী, উন্নত ইঞ্জিনিয়ার, শ্রমিক গড়ে উঠতে পারে সমাজে। তাই শিক্ষা সংস্কার দরকার এখনই। পাশাপাশি বিদ্যুতের সরবরাহ ও উৎপাদন প্রক্রিয়াতেও আমূল বদল আনতে হবে। বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্যুতের দামে কোনও সামঞ্জস্য নেই। লগ্নি করতে আসা শিল্পসংস্থাগুলি বিদ্যুতের বিলে নাজেহাল। একটি সমন্বয় থাকা দরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিলে। এজন্যই বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কার করতে হবে। আর এই তিনটি ক্ষেত্রেই সংস্কার করার জন্য একা রাজ্য যথেষ্ট নয়। তাই এই তিন ক্ষেত্রের সংস্কারে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্র। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকার এই তিন সেক্টরকে আরও বেশি সুশৃঙ্খল করার জন্য উদ্যোগী হবে। নীতি আয়োগের সদস্য অরবিন্দ বীরমণি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এবং নীতি আয়োগের কর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের বৈঠক হয়েছে। সেখানে রাজ্যগুলিকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এখন অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হল এই তিন সেক্টরের সংস্কার। প্রসঙ্গত নীতি আয়োগের সদস্য যে তিন সেক্টরকে চিহ্নিত করেছে, সেই তিনটিই রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত। জমি, শিক্ষা এবং বিদ্যুৎ। কেন্দ্রের আইন এই তিন সেক্টরে বলবৎ হয় না। রাজ্য চাইলে নিজের মতো করেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নীতি আয়োগ কর্তার এই মন্তব্য থেকে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে, খুব শীঘ্র এই তিন সেক্টরেও কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করতে চলেছে। রাজ্যগুলির সঙ্গে যা বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও কেন্দ্রের বক্তব্য জমি অধিগ্রহণ রাজ্যের দায়িত্বে। অথচ বহু রাজ্যে স্রেফ জমি অধিগ্রহণের গাফিলতির কারণেই শিল্প স্থাপন হচ্ছে না। একইরকমভাবে শিল্প শ্রমিক মিলছে না। বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহে চরম নৈরাজ্য চলছে বেশ কিছু রাজ্যে। এইসব কারণেই একটি সমন্বয় থাকা দরকার। কিন্তু সমন্বয়ের অর্থ কি রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ?

0 Comments