সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটকে (Budget 2026) ঘিরে এবার মধ্যবিত্ত করদাতাদের প্রত্যাশা বাড়ছে। কারণ, অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন মধ্যবিত্তদের দিকেই নজর দিতে পারেন। এমনকি আয়কর কাঠামোতো এবার কিছু সস্তিমূলক পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
![]() |
| India's Finance Minister is Smt. Nirmala Sitharaman |
নতুন আয়কর ব্যবস্থায় বাড়ছে আগ্রহ
২০২০ সালের বাজাটে প্রথমবার নতুন আয়কর ব্যবস্থা চালু করেছিলেন নির্মলা সীতারামন। সেই সঙ্গে পুরনো ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছিল, যাতে করদাতারা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী যে কোনও একটিকে বেছে নিতে পারে। শুরুতে নতুন ব্যবস্থার প্রতি অতটা আগ্রহ না থাকলেও ধীরে ধীরে সেই ছবি বদলেছে। সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে দেশে ৯ কোটির বেশি করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করছে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ৫.২ কোটি করদাতা নতুন কর ব্যবস্থায় রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এমনকি বিশেষজ্ঞদের মতে, করের হার কম এবং সরল কাঠামোর কারণে নতুন ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ছে।
কী কী সুবিধা মিলছে নতুন ব্যবস্থায়?
নতুন এই কর ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য সরকার ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে যেখানে আগে ছিল ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ করমুক্ত করা হয়েছে, যাতে মধ্যবিত্ত করদাতারা সরাসরি কর ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে প্রায় ৭.৫ কোটি ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছিলেন, যার মধ্যে বড় অংশের আয় ছিল ৫.৫ লক্ষ টাকা থেকে ৯.৫ লক্ষ টাকার মধ্যেই। আর এই শ্রেণিকেই মূলত মধ্যবিত্ত ধরা হচ্ছে। সেই সূত্রে করের বোঝা কমলে তাদের হাতে বাড়তি টাকা থাকবে। পাশাপাশি ভোগব্যয় বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে গতি আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কার্যকর হতে চলেছে নতুন আয়কর আইন
এদিকে নতুন বছর থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন আয়কর আইন ২০২৫। আর এই আইনের ভাষা আগের তুলনায় অনেকটাই সহজ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ করদাতারা তা বুঝতে পারে। সরকারের মূল লক্ষ্য হল এর মাধ্যমে কর প্রধান আরও স্বচ্ছ এবং সহজ করে তোলা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিমধ্যেই আয়কর ছাড়ের ফলে করদাতাদের বছরে ২ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেট ২০২৬-এ অর্থমন্ত্রী কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে পারেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল টার্ম ইনসিওরেন্স এবং হেলথ ইনসিওরেন্স প্রিমিয়ামে করছাড়, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আয়কর স্ল্যাব যুক্ত করার সম্ভাবনা, যাতে দাম বাড়লেও করের উপর কোনওরকম চাপ না পরে এবং মধ্যবিত্তদের জন্য কর ছাড়ের সুবিধা। এখন সবটাই নজর আগামী বাজেটের দিকে।

0 Comments