West Bengal Politics: রাজা রামমোহন রায় না থাকলে মা মারা গেলে বাবাকে চিতায় উঠতে হতো! সতীদাহ নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। দেখুন কী বললেন তিনি।
![]() |
| Abhishek Banerjee: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। |
সতীদাহ প্রথা রদ নিয়ে বলতে গিয়ে গুলিয়ে ফেললেন ইতিহাস? নাকি নিছকই ‘স্লিপ অফ টাং’? মেদিনীপুরের কলেজ মাঠের সভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে এখন জোর চর্চা সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাজা রামমোহন রায়ের অবদান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সতীদাহ প্রথার যে ব্যাখ্যা দিলেন, তা শুনে নেটিজেনদের একাংশ হতবাক। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়ো।
ঠিক কী বলেছেন অভিষেক?
সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে জেলায় জেলায় জনসংযোগ ও সভা করছেন অভিষেক। মেদিনীপুরের কলেজ মাঠের সভায় বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে বাঙালি মনীষীদের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। সেখানেই তিনি বলেন, “সতীদাহ প্রথা রোধ করেছিলেন একজন বাঙালি, তাঁর নাম রাজা রামমোহন রায়। বিজেপির নেতারা এই রামমোহন রায়কে ব্রিটিশদের দালাল বলে আখ্যায়িত করে।”
এরপরেই তিনি যোগ করেন, “রামমোহন রায় যদি আজ না থাকতেন, তাহলে আমার মা বা আপনার মা যদি মারা যেতেন, সেই চিতায় ঝলসে আপনার বাবা বা আমার বাবাকে মৃত্যুবরণ করতে হতো। সতীদাহ প্রথা রোধ করেছিলেন একজন বাঙালি।”
বিতর্ক কোথায়?
ইতিহাস অনুযায়ী, সতীদাহ প্রথায় স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীকে জ্বলন্ত চিতায় সহমরণে যেতে বাধ্য করা হতো। কিন্তু অভিষেকের বক্তব্যে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টে গিয়েছে। তিনি স্ত্রীর মৃত্যুতে স্বামীর চিতায় ওঠার কথা বলেছেন। ঐতিহাসিকভাবে যা সঠিক নয়। শাসকদলের শীর্ষ নেতার মুখে এমন ‘উলটপুরাণ’ শুনে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল ট্রোলিং।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি নেতাদের বাঙালি আবেগ-বিরোধী প্রমাণ করতেই রামমোহন রায়ের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন অভিষেক। কিন্তু আবেগের বশে সতীদাহ প্রথার বর্ণনায় নারী-পুরুষের ভূমিকা গুলিয়ে ফেলায় হিতে বিপরীত হয়েছে। বিরোধীরাও এই সুযোগে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। ভোটের মুখে এই ভাইরাল ভিডিয়ো শাসকদলের অস্বস্তি কিছুটা হলেও বাড়াল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

0 Comments